কাশ্মিরে উত্তেজনার মাঝেই পাকিস্তানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। শনিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের স্বদেশে উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।
ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘গজনভি’। এটি ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বলেও জানা গেছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (ISPR) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরীক্ষা একটি রুটিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ ছিল এবং এটি দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ে পরিচালিত হয়েছে।
পরীক্ষাটি বেলুচিস্তানের একটি নিরাপদ সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় সম্পন্ন হয়। ISPR এর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে এবং এটির ন্যাভিগেশন ও নির্ভুলতা নিয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, “এই পরীক্ষা আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি অংশ। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।”
অন্যদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় ভরদ্বাজ মন্তব্য করেন, “যদিও পাকিস্তান এটিকে রুটিন পরীক্ষা বলছে, তবে এর সময়সীমা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।”
গত সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় তিনজন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েনও বৃদ্ধি পায়।
পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের সামরিক কার্যক্রম প্রতিরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে ভারত বহুবার অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো কাশ্মিরে হামলা চালায়।
যদিও উভয় পক্ষই পরোক্ষভাবে উত্তেজনা প্রশমনের কথা বলছে, তবে সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখন সময় শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার, কারণ যেকোনো সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
