গাজার পর সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলা: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়ানোর শঙ্কা

News Report

গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযানের পর, ইসরায়েল এবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ও হিজবুল্লাহর ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় পরিসরের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মূল তথ্যসমূহ:
  • দামেস্কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক রাতজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে।
  • সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হলেও বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
  • ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
  • সিরিয়ান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন বেসামরিক নাগরিক।
  • গাজা ও পশ্চিম তীরে হামাসবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিবেশী সিরিয়াতেও সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।
পটভূমি:

গত এক দশকে ইসরায়েল নিয়মিতভাবে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, মূলত ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া ও হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে। তবে এবারের হামলাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র এবং বিস্তৃত। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর ব্যবহৃত একটি অস্ত্রগুদাম ও সামরিক স্থাপনা ছিল মূল লক্ষ্য।

“গত কয়েক মাসে এমন তীব্র হামলা আমরা দেখিনি। এটি একটি পরিষ্কার বার্তা,” — রামি আবদেল রহমান, প্রধান, সিরিয়ান অবজারভেটরি।

বিশ্লেষক ও সরকারি প্রতিক্রিয়া:

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে:

“এই আগ্রাসন সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি গাজায় চলমান নৃশংসতা থেকে মনোযোগ সরাতে একটি সচেতন প্রচেষ্টা।”

লন্ডনের SOAS বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক লিনা খতিব বলেন:

“ইসরায়েল এখন একাধিক ফ্রন্টে লড়ছে। সিরিয়ায় হামলা দেখাচ্ছে তারা কোনোভাবেই উত্তরের হুমকি সহ্য করতে রাজি নয়।”

ইসরায়েলের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন:

“এই অভিযানগুলো সুনির্দিষ্ট এবং প্রতিরোধমূলক। লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন অবকাঠামো ধ্বংস করা।”

সমাপ্তি:

গাজা যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, আর সিরিয়ায় নতুন হামলা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ যুদ্ধ সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তার লাভ করতে পারে। শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এখনো খুব একটা ফলপ্রসূ না হওয়ায়, পুরো অঞ্চল জুড়ে সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

Next News Previous News