এবার চিলিতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প
দক্ষিণ আমেরিকায় ভূমিকম্পের শঙ্কা কাটতে না কাটতেই এবার চিলিতে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় অ্যান্টোফাগাস্তা উপকূলের কাছে অনুভূত এই কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনায় যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন চিলির এই নতুন কম্পনও নজর কাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলের।
সমুদ্রের নিচে ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্রের নিচে। উত্তর চিলির উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত কেন্দ্রটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তুলনামূলক কম গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় অ্যান্টোফাগাস্তা এবং আশপাশের এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ধস, অবকাঠামোগত বড় ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
সুনামির আশঙ্কা নেই
চিলির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরনের সুনামি সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়, বিশেষ করে যখন সমুদ্রতলের ব্যাপক উল্লম্ব স্থানচ্যুতি ঘটে না।
এ কারণে উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তামা উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কম্পন
অ্যান্টোফাগাস্তা অঞ্চল শুধু চিলির নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক খনিজ শিল্পের জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই এলাকায় মাঝারি ও শক্তিশালী একাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। গত মে মাসে একই অঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যদিও সেই ঘটনাতেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবু অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ঝুঁকিতে চিলি
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে চিলির পরিচিতি দীর্ঘদিনের। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলোর সক্রিয় সংঘর্ষ ও নড়াচড়া নিয়মিত ঘটে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর কয়েকটি চিলিতে রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশটির সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো ভূমিকম্প মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে উন্নত প্রস্তুতি বজায় রাখে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাপান, ভেনেজুয়েলা এবং চিলিসহ বিভিন্ন দেশে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূতত্ত্ববিদরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ১৬৪ জনে পৌঁছেছে এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটলেও সেগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তবুও ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দিয়েছে।
Source: Based on reporting from CGTN, local Chilean disaster management authorities and international earthquake monitoring agencies.
