ইসলামে বিভেদ, হানাহানি ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই : প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইসলাম শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ধর্ম। তাই বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান ইসলামে নেই। আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার পালিতব্য পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে কারবালার মহান আত্মত্যাগের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কারবালার শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ এবং নৈতিক দৃঢ়তার এক অনন্য প্রতীক।
তার ভাষায়, কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রায় ১৪০০ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিকতার বার্তা
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইসলামের মূল শিক্ষা মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বিশ্বে বিভাজন, সহিংসতা এবং অসহিষ্ণুতার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আশুরার শিক্ষা নতুন করে শান্তি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
তিনি বলেন, একটি উন্নত ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং ভ্রাতৃত্বের চর্চা অপরিহার্য। আশুরার চেতনা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আশুরার বার্তা
ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আশুরার শিক্ষা শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এক সার্বজনীন বার্তা বহন করে। বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের জন্য এই শিক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীও তার বাণীতে একই বার্তা তুলে ধরে বলেন, সমাজে ন্যায়, শান্তি এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রার্থনা
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় শাহাদাতবরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, পবিত্র আশুরার মহান আদর্শ মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
আশুরার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখুক—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
Source: Based on the Prime Minister’s message released through Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS) on the occasion of Holy Ashura.
