বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় বেইজিংয়ের বিখ্যাত গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় অভ্যর্থনা জানানো হয়।
চীনা প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর দুই নেতা লাল গালিচা বিছানো অভিবাদন মঞ্চে যান। সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
তোপধ্বনি ও সামরিক সম্মান
রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে তিনি এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং যৌথভাবে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা সাধারণত বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন সফরের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার দিক থেকে এই আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সমঝোতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে অর্থনীতি
সফরসূচির অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফর
চীন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর সম্পন্ন করেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম সরকারি মালয়েশিয়া সফর।
মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ান শহরে গিয়ে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিং পৌঁছান তিনি।
প্রথম চীন সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। তবে চীনের সঙ্গে তার পরিচয় নতুন নয়। ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি চীন সফর করেছিলেন এবং একই গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আগামী বছরগুলোতে আরও গভীর হতে পারে।
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা সেই সম্পর্কের গুরুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Source: Based on reporting from Kaler Kantho and information provided by the Prime Minister’s Office (PMO).
