ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ কয়েকটি অঞ্চলে বহু ভবন ও বসতঘর ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।
সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া অন্তত ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও অনেক এলাকায় এখনও নিখোঁজ মানুষের খোঁজ চলছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজন, অপেক্ষায় পরিবারগুলো
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি কাতিয়া লা মার। সেখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অনেক পরিবার নিজেদের উদ্যোগেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর অভাবে তাদের পক্ষে কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ল্যারি রোজাস জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীরা চেষ্টা করলেও ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশ সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা সময়ের সঙ্গে কমে যাচ্ছে।
উদ্ধার বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা গেছে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে। অনেক পরিবার দাবি করছে, ভূমিকম্পের দীর্ঘ সময় পরও প্রয়োজনীয় সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
এক নারী জানান, তার মেয়ে একটি বহুতল ভবনের নিচে আটকা রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, ভবনের ভেতরে এখনও জীবিত মানুষ থাকতে পারেন। কিন্তু সময়মতো উদ্ধারকাজ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা না করা গেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানায় বহু ভবন কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধসে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় কম্পনটি প্রথমটির তুলনায় আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে।
মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে
ভূমিকম্পের ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে দেশ
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা করছে। তবে ধসে পড়া ভবনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং অনেক এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি থাকায় অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষ আটকা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
Source: Based on reporting from international media, local eyewitness accounts and data released by the U.S. Geological Survey (USGS).
