জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির পরাজয়, দায়ী ইসরাইল নীতি
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে জার্মানি। ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দুটি রোটেটিং আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশটিকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছে পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে জায়গা করে নিতে পারেনি জার্মানি। নির্বাচনে পর্তুগাল পেয়েছে ১৩৪ ভোট এবং অস্ট্রিয়া পেয়েছে ১৩১ ভোট। অন্যদিকে জার্মানির ঝুলিতে এসেছে ১০৪ ভোট।
ভোটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেন, ইউক্রেন ও ইসরাইলের প্রতি জার্মানির প্রকাশ্য সমর্থন এই ফলাফলের পেছনে একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবসময় স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্র সেই অবস্থানকে একইভাবে সমর্থন করে না।’
মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের প্রতি জার্মানির একটি ঐতিহাসিক ও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এই অবস্থানও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে জার্মানি ছয়বার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে এবার তারা প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে জিম্বাবুয়ে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া এশিয়া অঞ্চলের আসনে ফিলিপাইনকে ১৪৩-৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে কিরগিজস্তান।
নির্বাচিত দেশগুলো ২০২৭ সালের শুরু থেকে দুই বছরের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বর্তমানে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র।
