কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ৭

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন সেনাসদস্য এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদার রয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় এবং চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরেছেন বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

হামলার পর আহতদের অবস্থা

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সংঘটিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত সাতজনের সবাই তুলনামূলকভাবে হালকা আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসা গ্রহণের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা দায়িত্বে ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও হামলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না করলেও ঘটনাটি সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। 0

প্রতিশোধমূলক হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকার কাছে মার্কিন সামরিক হামলার জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোরে পাল্টা প্রতিশোধমূলক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। 1

তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কোন নির্দিষ্ট ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি আইআরজিসি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েতে মার্কিন বাহিনী ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। 2

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার সময় সক্রিয় ছিল এবং ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়। কুয়েত সরকারও জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক আকাশীয় হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। 3

তবে ক্ষেপণাস্ত্র পুরোপুরি ভূপাতিত হয়েছিল নাকি ধ্বংসাবশেষের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাড়ছে উত্তেজনা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এর জেরে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। 4

সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে অনেক পর্যবেক্ষক সেই নাজুক যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখছেন। কারণ উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করছে।

বিশ্ববাজারেও প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তেলের দাম, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। 5

এদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকলেও সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নতুন করে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে।


সূত্র: ইত্তেফাক, CBS News, Reuters ও Associated Press-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News