স্কুল থেকে টিসি দেওয়ার পর ছাত্রী নিখোঁজ, ঝোপে মিলল খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিখোঁজ এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান সংলগ্ন ঝোপ থেকে খণ্ড-বিখণ্ড ও অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে স্থানীয়রা ঝোপের পাশে একটি স্কুলব্যাগসহ মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ শুরু করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিখোঁজের ছয় দিন পর মিলল মরদেহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের অবস্থা খণ্ড-বিখণ্ড ও বিকৃত থাকায় শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মারিয়ার মরদেহ হতে পারে।
পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই মরদেহটির পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টিসি দেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া এবং একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর গত ১৫ জুন তাদের দুজনকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়। ওই দিনই মারিয়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ
ঘটনার তদন্তে পুলিশ একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ নামের একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত চলছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
একজন স্কুলছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার পর এমন ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ শনাক্ত ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Source attribution: Source: Based on reporting from মূল সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় পুলিশ সূত্র
