বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের শীর্ষে চীন, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল ‘লাইনশাইন’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের শীর্ষে চীন, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল ‘লাইনশাইন’

প্রায় এক দশক পর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের মর্যাদা আবারও নিজেদের দখলে নিয়েছে চীন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে।

জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটিং সম্মেলন (আইএসসি)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ ‘টপ৫০০’ তালিকায় চীনের ‘লাইনশাইন’ নামের সুপারকম্পিউটারটি বিশ্বের এক নম্বর অবস্থান অর্জন করেছে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে বড় ধাক্কা

১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার প্রকাশিত ‘টপ৫০০’ তালিকাকে বিশ্বব্যাপী সুপারকম্পিউটিং সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জনের মাধ্যমে ‘লাইনশাইন’ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সুপারকম্পিউটার ‘এল ক্যাপিটান’-কে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় চীনের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারও প্রতীক।

প্রতি সেকেন্ডে ২.২ এক্সাফ্লপ্স গতি

চীনের শেনঝেনে স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ সুপারকম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২.২ এক্সাফ্লপ্স গতিতে গণনা করতে সক্ষম। অর্থাৎ এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.২ কুইন্টিলিয়ন (২.২ × ১০¹⁸) গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করতে পারে।

এই ক্ষমতা জলবায়ু গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ বিজ্ঞান, জিনগত বিশ্লেষণ এবং সামরিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যবহার

‘লাইনশাইন’-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের নিজস্ব নকশায় তৈরি প্রসেসরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় সুপারকম্পিউটার এখনও মার্কিন প্রযুক্তি ও চিপের ওপর নির্ভরশীল হলেও এই প্রকল্পে কোনো মার্কিন চিপ ব্যবহার করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে চীনের সক্ষমতা এই অর্জনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান

যদিও শীর্ষস্থান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তবুও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর তালিকায় দেশটির প্রভাব এখনো ব্যাপক। শীর্ষ চারটির মধ্যে তিনটিই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে স্থাপিত ‘এল ক্যাপিটান’ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের প্রতিনিধিত্বকারী জার্মানির ‘জুপিটার বুস্টার’ শীর্ষ পাঁচের শেষ স্থানটি দখল করেছে।

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন অধ্যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারকম্পিউটিং খাতে চীনের এই অগ্রগতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

বিশ্বের পরবর্তী প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নির্ধারণে সুপারকম্পিউটিং এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, আর সেই প্রতিযোগিতায় চীন নতুন করে শক্ত অবস্থান জানান দিল।

Next News Previous News