ইসরায়েলের কাছে ৮৯টি তাজা মরদেহ ‘বিক্রি করেছে’ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়!

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি)-এর মৃতদেহ দান কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা ও চিকিৎসা গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা কিছু মৃতদেহ সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে।

এই ঘটনায় দেহদাতা পরিবারগুলোর সম্মতি, নৈতিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সূত্রপাত

অভিযোগকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যানাটমি ও মেডিকেল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় দান করা মৃতদেহের কিছু অংশ মার্কিন নৌবাহিনীসহ সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে।

এ নিয়ে আরও অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিদেশি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণেও এসব দেহ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে দেহদাতাদের সম্মতি, ব্যবহারবিধি এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি উঠেছে।

মেডিকেল গবেষণায় মৃতদেহ ব্যবহারের নিয়ম

মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণায় দান করা মৃতদেহ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সার্জারি প্রশিক্ষণ, শারীরবিদ্যা শিক্ষা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে এসব দেহ ব্যবহার করা হয়।

তবে এ ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত দাতার সম্মতি, পরিবারের অধিকার এবং নির্দিষ্ট নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো গবেষণা বা প্রশিক্ষণের ধরন দাতার সম্মতির বাইরে গেলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

মৃতদেহ সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হলে সেটি নিয়ে নৈতিক বিতর্ক দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ থাকলে দেহদাতা পরিবারগুলোকে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্ন সামনে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল গবেষণায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা জরুরি, কারণ দান করা দেহের সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও মর্যাদা জড়িত।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা

ইউএসসি ও ইউসিএসডির মতো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের কর্মসূচিতে আস্থা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দেহদাতা ও তাদের পরিবারের বিশ্বাস রক্ষা করতে ব্যবহারের উদ্দেশ্য, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণার ধরন স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মৃতদেহ দান কর্মসূচির পরিচালন পদ্ধতি ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উপসংহার

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মৃতদেহ দানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের ব্যবহারে নৈতিকতা, সম্মতি এবং স্বচ্ছতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিতর্ক ভবিষ্যতে দেহদাতা কর্মসূচির নিয়ম ও তদারকি আরও কঠোর করার আলোচনাকে সামনে আনতে পারে।


Source: Based on international media reports and public information regarding university body donation programs.

Next News Previous News