আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন, বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেছেন, সংসদকে অযথা উত্তপ্ত করতে চান না, তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলে সবাইকে নিজেদের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হবে।
শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনের আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “নিজেদের কথাই নিজেরা বিচার করুন, ১৯৭১ সালে কোথায় ছিলেন? স্বাধীনতার একদিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল এবং কারা বাংলাদেশকে বুদ্ধিজীবীশূন্য করার চেষ্টা করেছিল—সেসব ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।”
বাজেট বিতর্কে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে জয়নুল আবদিন বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবে, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়। তিনি বিরোধী দলকে জাতি গঠনের কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের দায়িত্ব দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা।
তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণের আহ্বান
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জয়নুল আবদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়।
তিনি সংসদ সদস্যদের মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ইতিহাস স্মরণ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি
বাজেট আলোচনায় জয়নুল আবদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোরও দাবি জানান। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তার ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হলে তা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদেরও স্মরণ
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের অবদানও জাতি কখনও ভুলবে না। তবে একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে জাতীয় চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জয়নুল আবদিনের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতার অর্জনের ফল, তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
গণতন্ত্র ও সংসদীয় সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস নিয়ে বিভাজনের পরিবর্তে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদীয় কার্যক্রমে সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে এবং এটি গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করছে।
বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
‘বাংলাদেশ সবার আগে’
বক্তব্যের শেষাংশে জয়নুল আবদিন জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ গঠনের আহ্বান জানান।
তার মতে, উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সূত্র: সংসদে দেওয়া বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
