পাগলা মসজিদের দানবাক্সে তিন ঘণ্টায় মিলল প্রায় ১০ কোটি টাকা, চলছে গণনা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে প্রাথমিক তিন ঘণ্টার গণনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলার পর সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় অর্থ গণনার কাজ। গণনা কার্যক্রমে অংশ নেন প্রায় ৩০০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্স থেকে স্বর্ণ ও রূপার অলংকার, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণনা এখনও চলমান থাকায় চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশে কিছুটা সময় লাগবে।
গণনায় অংশ নিয়েছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক
মসজিদ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গণনা কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। প্রতিবারের মতো এবারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করা হবে।
ব্যাংকে রয়েছে শত কোটি টাকার বেশি আমানত
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে বর্তমানে পাগলা মসজিদের নামে ব্যাংকে ১১৪ কোটি টাকা সরাসরি দান হিসেবে জমা রয়েছে। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে পাওয়া দানের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, মসজিদে আসা দান সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
দানশীলতার অনন্য নজির
পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন। অনেকের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে দানবাক্সগুলোতে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশে অবস্থানরত অনেক মানুষও অনলাইনের মাধ্যমে এই মসজিদে অনুদান পাঠিয়ে থাকেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দানের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গতবার হয়েছিল রেকর্ড
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দানবাক্স খোলার সময় রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেটি ছিল পাগলা মসজিদের ইতিহাসে এককবারে সর্বোচ্চ দান সংগ্রহের ঘটনা।
এবারও প্রাথমিক গণনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত হিসাব আরও বড় অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। তবে গণনা শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঐতিহ্য ও আস্থার প্রতীক
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ বহু বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর কয়েকবার দানবাক্স খোলা হয় এবং প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধারাবাহিকতা শুধু মসজিদটির জনপ্রিয়তাই নয়, বরং মানুষের ধর্মীয় অনুরাগ ও দানশীলতারও একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।
সূত্র: জেলা প্রশাসন, রূপালী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
