ফেসবুকে অবস্থান পরিষ্কার করলেন এমপি মনিরুল হক, চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নির্দেশনার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চরমোনাই পীর ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মামলাটি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না এবং বিষয়টি জানার পর দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী মামলাটি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পরে তার নির্দেশনা অনুযায়ী বাদী মামলা প্রত্যাহারে সম্মত হন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার বিষয়ে অজ্ঞতার কথা জানালেন এমপি
ফেসবুক পোস্টে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে তার নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় চরমোনাই পীর ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না এবং কারা এটি দায়ের করেছেন, সে বিষয়েও তার কোনো ধারণা ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি বিব্রত বোধ করেছেন। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক সহকর্মী ও নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করতে নির্দেশ দেন।
সমাধানের উদ্যোগ ও মামলা প্রত্যাহার
এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, তার নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে বাদী মামলা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন বলে তাকে জানানো হয়।
এ ছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তার আইনজীবীকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদের ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মনিরুল হক
পোস্টের শেষাংশে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সাম্প্রতিক একটি সংসদীয় ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসদে সংঘটিত একটি অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে তার যে অভিযোগ ছিল, তা তিনি সংসদের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উত্থাপন করেছেন।
তিনি আইন, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
কী ছিল মামলার অভিযোগ?
গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নিজেকে যুবদলের একজন নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৯ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং একটি ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক, বিদ্রূপাত্মক এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি ভিডিওতে এমপির পোশাক, টুপি এবং দাড়ি নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়। পাশাপাশি একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এসব বক্তব্য ও পোস্টের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিরোধ বা বিতর্ক অনেক সময় দ্রুত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
চরমোনাই পীর ফয়জুল করীম দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হিসেবে কুমিল্লার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে দুই পক্ষকে ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্কের দ্রুত সমাধান রাজনৈতিক মহলেও ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
মামলা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আপাতত বিষয়টির আইনি জটিলতা শেষ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
Source: Based on reporting from Jugantor and statements published on the verified Facebook account of MP Monirul Haque Chowdhury.
