আ. লীগের আমলে জেলে থাকলেও সরকার দলীয় নেতাদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কারাগারে থাকা সত্ত্বেও সরকার-ঘনিষ্ঠ অনেক নেতার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাজেট আলোচনা চলাকালে তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে ধরেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে ভাড়ায় গাড়ি ব্যবহার করে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তবে মাস শেষ হলেও সেই গাড়ির ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মীদের জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টিও উঠে আসে।
সম্পদ বৃদ্ধির প্রশ্নে সমালোচনা
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অতীত সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কারাবন্দি থাকার দাবি করলেও তাদের অনেকের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাজনৈতিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংসদে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা
একই অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তার মতে, জাতীয় বাজেটে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন ছিল।
বাজেটে ‘জাকাত’ শব্দ না থাকার সমালোচনা
মুজিবুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতের পরিকল্পনা ও নীতির কথা উল্লেখ থাকলেও জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বিষয়ে কোনো আলোচনা ছিল না।
তিনি মনে করেন, সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় ভিন্নমত
সংসদের চলমান বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা অর্থনীতি, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সুশাসন নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরছেন।
নাহিদ ইসলাম ও মুজিবুর রহমানের বক্তব্যও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
