প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টে মায়ের নামে করার প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি মত দিয়েছেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হলে সেখানে নতুন নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছিল। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর তা অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি বেশি উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, নতুন কোনো নাম যুক্ত করার প্রয়োজন হলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে সেটির নামকরণ করা যেতে পারে। এতে পুরোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রশাসনিক বিতর্ক
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় সরকারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা হয়েছে। সমর্থকদের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদান স্মরণে নামকরণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন, ঘন ঘন নাম পরিবর্তন প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং জনস্বার্থ—সব দিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
দক্ষতা উন্নয়ন খাতে গুরুত্ব
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান উল্লেখযোগ্য।
প্রবাসীকল্যাণ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাম পরিবর্তনের বিতর্কের বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরামর্শ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে এটি সরকারি অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি অক্ষুণ্ন রাখার নীতিগত অবস্থান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম অপরিবর্তিত থাকছে এবং এটি আগের নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
Source: Based on reporting from Samayer Kanthoshor and information from relevant government sources.
