ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের প্রত্যাশা করছিল। বর্তমান সংসদ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতের কিছু সংসদ নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে বলেন, একসময় এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদের প্রতি আস্থা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব

স্পিকার বলেন, গণমাধ্যম সংসদের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, সংসদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ যত বেশি অবগত হবে, ততই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংসদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ ও গণমাধ্যমের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অতীতের সংসদ নিয়ে স্পিকারের মন্তব্য

বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কিছু সময়ের সংসদীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে যেখানে নির্বাচনী ফলাফল এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি বলেই জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল।

‘পরিবর্তন চেয়েছে সাধারণ মানুষ’

স্পিকার বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ভোটের ধরণ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। তাঁর মতে, ভোটাররা এমন একটি সংসদ দেখতে চেয়েছে, যেখানে জনগণের সমস্যা, চাহিদা এবং প্রত্যাশা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য নিজেদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তাঁদের দায়িত্বও আগের তুলনায় বেশি।

জনগণের সেবায় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব জনগণের কল্যাণে কাজ করা। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে সংসদকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী হতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদীয় কার্যক্রম এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে সাধারণ মানুষও এর সুফল সরাসরি অনুভব করতে পারবে।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যম এবং সংসদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়লে সংসদীয় কার্যক্রম আরও জনমুখী হবে। পাশাপাশি সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

ফল উৎসবে সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ

বিপিজেএ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News