ছেলে-মেয়ে উভয়ের অধিকার সমান হলে ছেলেদের শিক্ষা কেন অবৈতনিক করা হচ্ছে না
ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান নীতিগত বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা। তিনি জানতে চান, যদি ছেলে ও মেয়ের অধিকার সমান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু মেয়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকলেও ছেলেদের জন্য একই ধরনের সুযোগ কেন নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ, অবৈতনিক শিক্ষা এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।
নারী শিক্ষার অগ্রগতির প্রসঙ্গ
নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে দেশে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও অগ্রগতি দৃশ্যমান।
তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেরাও সমান অধিকারভুক্ত। তাই শিক্ষাসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণের দাবি
সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, অনেক দেশে শিক্ষার বিস্তৃত স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে যে পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষাকে সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
বেসরকারি শিক্ষার্থীদের জন্যও সুবিধা চাইলেন
বক্তৃতায় তিনি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে ধরনের সহায়তা পায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিষয়েও নীতিনির্ধারকদের ভাবা উচিত।
বিশেষ করে শিক্ষা-সহায়ক কর্মসূচি, পুষ্টি সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করার আহ্বান
নুরুন্নিসা সিদ্দীকা সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জীবনমান ও কর্মপরিবেশের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানো প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদে এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে। তবে যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক বাস্তবতা, বাজেট সক্ষমতা এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বাজেট অধিবেশনে উত্থাপিত এই বক্তব্য শিক্ষা খাতে সমতা, সুযোগের বিস্তার এবং নীতিগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
