ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস নিতে চায় পাকিস্তান
ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর দেশটি থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল ও গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা বিবেচনা করছে পাকিস্তান। দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে আসায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোববার লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমে আসার পর জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা পাকিস্তানের জন্য লাভজনক হতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমেছে
মন্ত্রী জানান, সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে এবং দামও কমেছে।
তার দাবি, সরকার বিশ্ববাজারে দামের পতনের সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রভাব
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ফলে ইরানের জ্বালানি খাত নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি করলে আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহের নতুন উৎস নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
ভোক্তাদের জন্য আরও স্বস্তির ইঙ্গিত
আলী পারভেজ মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দেশে জ্বালানির দাম আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকার এ বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করছে এবং বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভিন্ন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং জনগণকে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।
গ্যাস সংযোগ চালুর ঘোষণা
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা আরএলএনজি (RLNG) গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে এসব সংযোগ আবার চালু করা হবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তান তার জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ও শুরু করতে পারে।
