ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতিও গাজার মতো হতো: পেজেশকিয়ান
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইরানকে বহিরাগত হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছে।
আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন যে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ইরানও গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়তে পারত। তাঁর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কঠোর অবস্থান
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাঁর মতে, এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না থাকলে শত্রুপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার সক্ষমতার প্রশ্নে তেহরান কোনো অবস্থাতেই আপস করবে না। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
পাকিস্তান সফরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে ইসলামাবাদ পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও পৃথক সফরসূচিতে পাকিস্তানে যান।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সরাসরি তেহরান থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছান। অন্যদিকে ওমান সফর শেষে পাকিস্তানে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি।
রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানি প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির নতুন বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুধু সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক বার্তারও অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ইরান তার প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে চাইছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান সফরকে দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়। পশ্চিমা দেশগুলো এ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা ইরানের জন্য অপরিহার্য।
সূত্র: আল-আরাবিয়া, ডন এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
