আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত মতামত বা অবস্থানকে কখনোই প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে দেবেন না।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আসীন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তিনি আগামী এক বছর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি তার বক্তব্যে জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে নবম দশকে প্রবেশ করছে যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধ ও সংঘাতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত লাখো মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
খলিলুর রহমান বলেন, বহুপাক্ষিকতা বর্তমানে নানা ধরনের চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘ তার অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘে ছোট আকারের প্রতিনিধিদল বা সীমিত সক্ষমতার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
খলিলুর রহমানের ঘোষিত ছয়টি প্রধান অগ্রাধিকার
- শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
- টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতি বৃদ্ধি
- জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা
- মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী ও অভিবাসী বিষয়ক কার্যক্রম জোরদার করা
- ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা
- বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার, ইউএন-৮০ উদ্যোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।
