মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলায় নিহত আজারবাইজানের ৫ নাগরিক
আজভ সাগরে মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, নিহত ৫ আজারবাইজানি নাগরিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজভ সাগরে দুটি বিদেশি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় পাঁচজন আজারবাইজানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৫ জুন) দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী জাহাজ দুটিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের অভিযান ছিল এমন কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে, যেগুলো তারা অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে মনে করে।
হামলার পর হতাহতের তথ্য প্রকাশ
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত দুটি জাহাজের ক্রুদের মধ্যে ২৫ জন আজারবাইজানের নাগরিক ছিলেন। হামলায় পাঁচজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতদের রাশিয়ার আজভ সাগর উপকূলবর্তী শহর ইয়েইস্ক-এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে আজারবাইজান দূতাবাসের কর্মকর্তারা পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভিন্ন দাবি
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানান, বেলিজ ও পালাউয়ের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ—‘নাত্রা’ ও ‘সিরকন’—তুরস্ক থেকে রাশিয়ার রোস্তভ-অন-দন বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি দাবি করেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো মারিউপোল ও বেরদিয়ানস্ক বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় থাকা কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, এসব জাহাজ দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগর এলাকায় সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। ড্রোন হামলা, নৌ অভিযান এবং বন্দরকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক নাবিক ও বিদেশি নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা সংঘাতের মানবিক প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
রোমানিয়াতেও ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা
এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রোমানিয়ার কনস্তানতা বন্দরে তাদের একটি নৌ ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। দেশটির দাবি, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে পাঁচটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি রোমানিয়ায় এবং একটি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে বিস্ফোরিত হয়। বাকি ড্রোনগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
উপসংহার
আজভ সাগরে জাহাজে হামলার ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নতুন ঝুঁকির দিক তুলে ধরেছে। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বেসামরিক নৌযান ও আন্তর্জাতিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Source: Based on international reports and statements from Azerbaijan, Russia and Ukraine authorities
