ধানমন্ডিতে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা
ধানমন্ডি ৩২-এ বিক্ষোভ ঘিরে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা রাজনৈতিক অঙ্গনে
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আওয়ামী লীগবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন আয়োজিত কর্মসূচির পর এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির বর্তমানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিক্ষোভ মিছিলের পর উত্তেজনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেন।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং চলাকালে কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আহত হন এক সাংবাদিক
উত্তেজনার একপর্যায়ে হামলার শিকার হন দৈনিক সকালের প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান শিশির। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মুখমণ্ডল থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সাংবাদিক সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াত নেতার প্রতিক্রিয়া
ঘটনার বিষয়ে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান খান এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ ঢুকে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমাবেশ, আন্দোলন বা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদকর্মীদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
তারা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধির এই সময়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
