মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে কেন ভাবেন না, জানালেন এমবাপ্পে

চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পে। তিনি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে নিয়মিত ভাবেন না, বরং নিজের দলের হয়ে সেরাটা দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসিও করেছিলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই তারকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আবারও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে তাদের দ্বৈরথকে।

‘লিও সবসময় গোল করে’ — বললেন এমবাপ্পে

ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে নিজের তুলনা নিয়ে কথা বলেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, মেসির পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করতে গেলে নিজের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।

ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, “লিও কী করছে সেটা যদি দেখতে শুরু করি, তাহলে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। সে সবসময় গোল করে, অতীতেও করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”

তিনি আরও বলেন, মেসির প্রতি তার শ্রদ্ধা থাকলেও প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকার পরিসংখ্যান নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান না। নিজের দলের জন্য অবদান রাখাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপে রেকর্ডের পথে এমবাপ্পে

বর্তমান বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ও মেসি দুজনেই দারুণ ছন্দে আছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে থাকা মেসির রেকর্ডের কাছাকাছি চলে এসেছেন এমবাপ্পে।

ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এই সংখ্যায় তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা-এর সমান অবস্থানে রয়েছেন এবং মেসির চেয়ে দুই গোল পিছিয়ে আছেন।

জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচে স্মরণীয় জয়

ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এই মাইলফলকে জোড়া গোল করে জয় পাওয়ায় নিজের অনুভূতিও প্রকাশ করেন তিনি।

এমবাপ্পে বলেন, বিশ্বকাপ একজন ফুটবলারের জন্য সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলোর একটি। তাই ভালো প্রস্তুতি নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। চোট কাটিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত অবস্থায় ফিরে আসার কথাও জানান এই ফরাসি তারকা।

ঝড়ের কারণে দীর্ঘ বিরতিও ছিল চ্যালেঞ্জ

ফিলাডেলফিয়ায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ চলাকালে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়। ড্রেসিংরুমে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় খেলোয়াড়দের।

এমবাপ্পে জানান, এত দীর্ঘ বিরতির পর মনোযোগ ধরে রাখা সহজ ছিল না। তবে দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে।

লড়াই থাকলেও সম্মান অটুট

মেসি ও এমবাপ্পের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল বিশ্বে অন্যতম আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে দুজনের বক্তব্যেই স্পষ্ট, প্রতিযোগিতা থাকলেও একে অপরের প্রতি রয়েছে গভীর সম্মান।

বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স কোন নতুন রেকর্ড তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source attribution: Source: Based on reporting from আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ প্রতিবেদন

Next News Previous News