জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, গোলাবাড়ি কেন পারছেন না?
কুমিল্লার আলোচিত গোলাবাড়ি এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লং মার্চ কর্মসূচি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংসদ সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য।
গোলাবাড়ি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী প্রশাসনের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, জেলার অন্য কিছু জটিল এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও গোলাবাড়ির মতো একটি এলাকায় কেন অপরাধ দমন করা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় সক্রিয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি।
তার মতে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ বিবেচনা করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অপরাধীদের তালিকা তৈরির আহ্বান
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশে এমপি মনিরুল বলেন, গোলাবাড়ি এলাকার মূল অপরাধী ও মাদক কারবারিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। অপরাধ দমনে প্রশাসনিক উদ্যোগ পর্যাপ্ত না হলে জনগণের অংশগ্রহণে বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
লং মার্চের ঘোষণা
সংসদ সদস্য জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গোলাবাড়ি এলাকায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লং মার্চ আয়োজন করা হতে পারে। তার দাবি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে জনসচেতনতা এবং গণঅংশগ্রহণ প্রয়োজন।
স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন
আলোচনা সভায় জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরের উদ্দেশে মনিরুল হক চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, হত্যা ও মাদক মামলার আসামিরা কীভাবে সহজে জামিন পাচ্ছেন। তিনি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।
তার মতে, অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
মাদকবিরোধী দিবসের আলোচনা সভা
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উপস্থিত বক্তারা মাদক ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং বিচারিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়ানোও জরুরি।
Source: Based on reporting from Amar Desh and statements made by Cumilla-6 MP Monirul Haque Chowdhury at an anti-drug awareness event in Cumilla.
