বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত ১৭ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানে ১৭ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি ট্রেন হামলার পর এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, নুশকি, জেহরি, খুজদার ও কেচ এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের পটভূমি
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে বেলুচিস্তানের কোয়েটা এলাকায় একটি ট্রেন হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে। অভিযানের সময় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময় হয়।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিরা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে নিহতদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দাবি
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযান এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র নেটওয়ার্ক দমনের অংশ।
বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অধিকার, সম্পদ বণ্টন এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব
পাকিস্তান প্রায়ই অভিযোগ করে আসছে যে, কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী বিদেশি সহায়তা পাচ্ছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে।
উপসংহার
বেলুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা অভিযান দেখাচ্ছে যে, অঞ্চলটির দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সহিংসতা কমাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাধানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Source: Based on reporting from international media and Pakistan’s ISPR statement.
