মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কার মঞ্চে পরিবর্তন আনল ফিফা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার গ্রহণের সময় মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য অ্যালকোহল-সম্পর্কিত স্পন্সর ব্র্যান্ডিং সরিয়ে নিরপেক্ষ ডিজাইন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফুটবল বিশ্বে এই পদক্ষেপকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত চলমান বিশ্বকাপে বিষয়টি আলোচনায় আসে মরক্কোর মিডফিল্ডার Ismael Saibari ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে আলোচনায় আসা এই ফুটবলার পুরস্কার গ্রহণের সময় যে মঞ্চে দাঁড়ান, সেখানে সাধারণত ব্যবহৃত অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগো প্রদর্শন করা হয়নি।

স্পন্সর ব্র্যান্ডিংয়ের বদলে নিরপেক্ষ ডিজাইন

বিশ্বকাপের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার একটি স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের নামে প্রদান করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে সেই ব্র্যান্ডিং সরিয়ে ফিফার নিজস্ব ডিজাইন ও অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট পরিচিতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ইসমাইল সাইবারিই নন, আরও কয়েকজন মুসলিম ফুটবলারের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন Emam Ashour, Ali Olwan, Ramin Rezaeian এবং Mahmoud Abunada

ফিফার ব্যাখ্যা কী?

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যেসব খেলোয়াড়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে অ্যালকোহল গ্রহণ নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়, তাদের জন্য বিকল্প উপস্থাপনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ফিফার এক মুখপাত্র স্পোর্টসবাইবেলকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের অনুরোধে স্পন্সরবিহীন ট্রফি, ব্যাকড্রপ বা ভিজ্যুয়াল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই ধরনের নীতি অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়।

নতুন নয়, তবে আরও বিস্তৃত প্রয়োগ

ফুটবলে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত স্পন্সরশিপ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মিসরের গোলরক্ষক Mohamed El Shenawy অ্যালকোহল ব্র্যান্ড-স্পন্সরকৃত ম্যাচসেরা পুরস্কার গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

এরপর বিভিন্ন লিগ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ দেখা যায়। কোথাও অ্যালকোহলযুক্ত পণ্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ উপস্থাপনা, আবার কোথাও অ্যালকোহলমুক্ত বিকল্প ব্যবহার করা হয়েছে।

ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও বৈশ্বিক ফুটবলের বাস্তবতা

বর্তমান ফুটবল বিশ্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির খেলোয়াড়রা একই মঞ্চে অংশ নিচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ফিফার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকেও আরও শক্তিশালী করছে।

বাংলাদেশসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো যখন বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে সমান গুরুত্ব দেয়, তখন খেলাধুলা সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার এই নীতিকে তাই শুধুমাত্র একটি পুরস্কার প্রদানের পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

Source: Based on reporting from SportBible and international sports media reports.

Next News Previous News