স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ধরতে পুলিশের বড় অভিযান, মবের ভয়ে পিছুটান
রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেককে আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে পুলিশ। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং একটি হত্যা মামলার তদন্তের সূত্র ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার গভীর রাতে নগরীর নিউমার্কেট এলাকার একটি বহুতল ভবন ঘিরে অভিযান চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ভবনটি ঘিরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত কাউকে আটক না করেই অভিযান সমাপ্ত করে পুলিশ।
ফেসবুক লাইভের পর জড়ো হন সমর্থকরা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযান শুরু হওয়ার পর মীর তারেক নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান।
এর কিছু সময়ের মধ্যেই মোটরসাইকেলে করে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ভবনের সামনে জড়ো হন। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পুলিশকে সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যায়।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২১ জুন রাজশাহীর শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় এলাকায় একটি ভবনের ছাদে গুলিবিদ্ধ হন ফয়সাল হোসেন বাঁধন নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, গুলি, হাতবোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে মীর তারেকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধারের বিষয়ে মীর তারেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আহত বাঁধন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার গাজীউর রহমান দাবি করেন, ওই রাতে নির্দিষ্টভাবে মীর তারেককে নয়, অন্য এক আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
আগের মামলাতেও আসামি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মীর তারেক একটি পুরোনো হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি। গত বছরের মার্চ মাসে রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক অটোরিকশা চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার নাম রয়েছে।
সাম্প্রতিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযানের পর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
