জুন-আগস্টের মধ্যে এল নিনোর শঙ্কা, বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ
চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট সময়কালে এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে ওঠার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। এ সময়ের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো সক্রিয় হলে বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং দীর্ঘস্থায়ী গরমের প্রবণতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত কয়েক বছর পরপর এল নিনো ও এর বিপরীত অবস্থা লা নিনার আবির্ভাব ঘটে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো তৈরি হলে কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও দীর্ঘ তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী গরম ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষেরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রস্তুতির ওপর জোর
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কৃষি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তারা বলছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
জুন-আগস্ট সময়কালে এল নিনো পরিস্থিতি কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে মিলিত হয়ে এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
Source: Based on forecasts and assessments from international climate monitoring agencies and meteorological experts.
