বিএনপির মঞ্চে থাকা যুবলীগ নেতা ঢাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার
ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টার অভিযোগে হাসিবুল হোসেন লিটন নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসার পর।
সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া হাসিবুল হোসেন লিটন ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানাজার পর মিছিলের চেষ্টার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে একদল সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন এবং হাসিবুল হোসেন লিটনকে আটক করেন।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে দাবি
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিবুল হোসেন লিটন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি একসময় মিরপুর বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানা যায়। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রেও তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ মহলে পরিচিত ছিলেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর ধামরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদশার সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেছে হাসিবুল হোসেন লিটনকে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হচ্ছে, যা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয় বিএনপি নেতার সঙ্গে লিটনের একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএনপি নেতার বক্তব্য মেলেনি
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিতর্কের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ অনেক সময় নতুন প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করছে।
ধামরাইয়ের এই ঘটনাও তেমনই একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক নিয়ে দলীয়ভাবে কোনো তদন্ত হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
Source: Based on reporting from Amar Desh and statements from local BNP leaders and residents of Dhamrai, Dhaka.
