মাদকবিরোধী দিবসে রাজশাহীতে জামায়াতের র‍্যালি ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

নগরীর আলুপট্টি এলাকা থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন এবং মাদক সমস্যাকে দেশের অন্যতম সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমির আবু মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার এবং সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে মাদক নির্মূলে সরকার, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করা গেলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। তার মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেও মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।

তরুণ সমাজকে রক্ষার তাগিদ

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল তার বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি তরুণদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং পারিবারিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার সমাজে মাদকবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদককে কোনোভাবেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা উচিত নয় এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

মাদক সমস্যার সামাজিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মাদকের সঙ্গে অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অস্থিরতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবি

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা মাদক পাচার, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন এবং সামাজিক নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচির শেষে বক্তারা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: আমার দেশ-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News