ফেনীতে বিএনপির সভায় অংশ নিলেন দুই ওসি
ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপির আয়োজিত একটি রাজনৈতিক আলোচনা সভায় দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
রোববার বিকেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম এবং দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানের উপস্থিতি দেখা যায়। অনুষ্ঠানের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সৈয়দ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন খোকন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা বা অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। সে কারণে দুই পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি তাদের পেশাগত নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা কোন প্রেক্ষাপটে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
তদন্তের কথা বলছে পুলিশ প্রশাসন
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) মুমিদ রায়হান বলেন, পোশাক পরিহিত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত নয়। যদি কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিরাপত্তা বা প্রটোকল সংক্রান্ত কারণে সেখানে যেতে হয়ে থাকে, তাহলেও রাজনৈতিক সভার ভেতরে প্রবেশ করা সমীচীন হয়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা জনআস্থার অন্যতম ভিত্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিধান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিদ্যমান। ফেনীর এই ঘটনাটি সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং পুলিশ প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের। তদন্ত শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
