পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৭ দিনের ব্যবধানে ফের জোড়া খুন
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আবারও দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামে পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মঠবাড়িয়ায় একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় নিহত দুজন হলেন আব্দুর রশিদ ও মো. সাগর। তারা দুজনেই উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রাতে ডেকে নেওয়ার পর মিলল মরদেহ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আব্দুর রশিদকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রোববার সকালে স্থানীয়রা নেহালিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন একটি মক্তবের বারান্দায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগরের মরদেহ তার বাড়ির পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বাড়ির পেছন থেকে ডাকাডাকির শব্দ শোনার পর তারা বাইরে বেরিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। পরে টর্চের আলোতে খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির পেছনে সাগরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিখোঁজ আরও এক ব্যক্তি
ঘটনার মধ্যে নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে একই গ্রামের ইউসুফ প্যাদা নামে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার খবর। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কয়েকদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। যদিও তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একই ধরনের কোনো অপরাধচক্র বা বিরোধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
ঘটনার পর পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মরদেহ কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উভয় মরদেহে কাদামাটির চিহ্ন ছিল।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের ফলাফল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক সপ্তাহে চার প্রাণহানি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
মঠবাড়িয়ায় এটি সাত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় জোড়া মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ২৪ মে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউসুফ শরীফ এবং টিকিকাটা ইউনিয়নের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে দুইজনের মরদেহ উদ্ধারে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সহিংসতার পেছনের কারণ শনাক্ত করা না গেলে এলাকায় আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমানে পুলিশ ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র উন্মোচন।
সূত্র: আমার দেশ-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
