ইউক্রেনের নতুন অস্ত্রে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের বাস্তবতা, বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাশিয়া
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সেনা না পাঠিয়ে ড্রোন, রোবট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধযানের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
সাম্প্রতিক এক অভিযানে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, যেখানে মাটিতে কোনো ইউক্রেনীয় সেনার উপস্থিতি ছিল না। গেমিং চেয়ারে বসে লাইভ ড্রোন ফিডের সাহায্যে পুরো অভিযান পরিচালনা করেন কমান্ডাররা।
সেনা সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চাপে ইউক্রেন এখন দ্রুত মানবহীন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, সম্পূর্ণ রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার একটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে এবং চলতি বছরের শুরু থেকে এসব প্রযুক্তি ২২ হাজারেরও বেশি মিশনে অংশ নিয়েছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত বিস্ফোরকবাহী রোবটগুলো শত্রুপক্ষের কাছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা নীরব মৃত্যু নামে পরিচিত। এগুলো লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম এবং অনেক ক্ষেত্রে শত শত সেনার ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।
সামরিক হিসাব অনুযায়ী, রোবট ব্যবহার করে পরিচালিত ১৬৪টি অভিযানে সমপরিমাণ কার্যকারিতা অর্জনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ সেনার প্রয়োজন হতো। এতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।
নতুন এই যুদ্ধের নায়করা অনেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের মূল শক্তি এখন কেবল অস্ত্র নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সমন্বিত পরিচালনা।
রোবটগুলো শুধু হামলাই নয়, আহত সেনা উদ্ধার, গোলাবারুদ পরিবহন এবং ফ্রন্টলাইনে রসদ সরবরাহের কাজও করছে। দ্রুতগতির নতুন যুদ্ধরোবট তৈরির কাজও চলছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই মানবহীন যুদ্ধ ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে। তবে এর সঙ্গে বাড়ছে নতুন ধরনের নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও।
