আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি: ডা. তাহের
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উন্নয়ন, জাতীয় রাজনীতি এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সংসদে নিজের সাংবিধানিক অবস্থান, দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মন্তব্য করেন।
রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সংসদে নিজের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য
বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, তিনি শুধু সংসদ সদস্যই নন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেন, সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধীদলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদ অধিবেশনে তিনি নিয়মিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।
তার বক্তব্যে সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও উঠে আসে।
জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
ডা. তাহের বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে বিজয় অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, একক ও জোটগতভাবে দলটির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
তার মতে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করাই দলের লক্ষ্য। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, চৌদ্দগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে। এ জন্য সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ে উদ্বেগ
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক সমস্যা হিসেবে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তরুণ সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।
সমাজভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান
ডা. তাহের মনে করেন, অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সমাজের সাধারণ মানুষকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষের সংখ্যা অপরাধীদের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় জনগণকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য স্থানীয় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চৌদ্দগ্রামের এই অনুষ্ঠানেও উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
