নির্বাচনের ভাগ্য পর্দার আড়ালে ব্লাকমেইলিং করা হয়েছে: বিরোধীদলীয় নেতা
কীওয়ার্ড: জাতীয় সংসদ, জামায়াত, শফিকুর রহমান, নির্বাচন ২০২৬, ওয়াকআউট, রাজনৈতিক সংকট
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একাধিক বিল ও অধ্যাদেশের কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন ও সংসদীয় সিদ্ধান্তের পেছনে “পর্দার আড়ালে সমঝোতা” এবং “জাতিকে ব্ল্যাকমেইল” করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্যে মূলত সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ, সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল ল্যাপস হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ উঠে আসে। সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের ঘটনাও এদিন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 0
নির্বাচন নিয়ে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ অভিযোগ
প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান নির্বাচন এবং সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন থাকলেও বিরোধী দল তা মেনে নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের পর তাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
তার ভাষায়, নির্বাচনের ভবিষ্যৎ যদি আগেই পর্দার আড়ালে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কিছু অবস্থান এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৩৩ অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে সবগুলো আলোচনায় আনা হয়নি। এ নিয়ে বিশেষ কমিটির কার্যক্রমেও স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সরকারি দলের সদস্যরা একতরফাভাবে চূড়ান্ত করেছেন এবং বিরোধী সদস্যদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। এর ফলে সংসদীয় কমিটির প্রতি বিরোধী দলের আস্থা নষ্ট হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিরোধী দল ইতোমধ্যেই সংসদে একাধিক বিলের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে এবং আইন প্রণয়নের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 1
গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে উদ্বেগ
শফিকুর রহমান বিশেষভাবে দুদক, পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন, গণভোট এবং পিএসসি সংশ্লিষ্ট বিলগুলোর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এসব বিল প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি অভিযোগ করেন, যেসব আইনের মাধ্যমে অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার বা ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো’ শক্তিশালী হয়েছে, সেসব বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে অনাগ্রহী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদে বিরোধী দলের ধারাবাহিক ওয়াকআউট এবং নির্বাচন-পরবর্তী আস্থার সংকট জাতীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে নির্বাচন ২০২৬-পরবর্তী সংসদীয় ভারসাম্য, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে স্বচ্ছ আলোচনা ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
পরবর্তী পরিস্থিতি
বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ে তারা কোনো ছাড় দেবেন না। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
এখন নজর থাকবে, বিতর্কিত বিল ও অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনায় আসে কি না এবং সরকার বিরোধী দলের অভিযোগের কী জবাব দেয়।
Source: Based on reporting from The Business Standard, Dhaka Tribune, bdnews24.com
```2