আ. লীগ সরকারের সুরে সড়কমন্ত্রীর বক্তব্য: সংসদে সরকারি দলের এমপির অভিযোগ
সংসদে সড়কমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, কুমিল্লা মহাসড়ক নিয়ে তীব্র সমালোচনা
জাতীয় সংসদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনা ঝুঁকি, অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্য আগের সরকারের সময়কার ব্যাখ্যার পুনরাবৃত্তি। তিনি বলেন, জনগণ বহু বছর ধরে একই ধরনের আশ্বাস শুনে আসছে, কিন্তু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় তিনি পাদুয়া বাজার ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে স্থাপিত ব্যারিকেড, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেনের অভাবকে “মরণফাঁদ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই অংশে বছরের পর বছর বহু প্রাণহানি ঘটেছে, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ বা স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হয়নি। 0
মন্ত্রীর জবাব ও ১০ লেন প্রকল্প
জবাবে সড়কমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা অংশে অন্তত পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে পাদুয়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত দুটি আন্ডারপাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং দুর্ঘটনা কমাতে ইন্টারসেকশন উন্নয়নও পরিকল্পনায় রয়েছে। 1
2মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের প্রকল্পের নকশা সীমাবদ্ধতার কারণে সবকিছু সংশোধন করা সম্ভব নয়, তবে বর্তমান সরকার বাজেট ও নকশা সমন্বয়ের মাধ্যমে যতটা সম্ভব উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
সংসদ সদস্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রীর বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতে অনুমোদিত প্রকল্পে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বাস্তবে প্রতিশ্রুত ওভারপাস, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামো কোথায় গেল?
তার বক্তব্যে একটি মানবিক দিকও উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে এই মহাসড়কের ওই অংশে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি।
জননিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রভাব
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ, যা চট্টগ্রাম বন্দরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুমিল্লা অংশে দীর্ঘদিনের যানজট, দুর্ঘটনা এবং অসমাপ্ত অবকাঠামো স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়েও এই মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার যানজট এবং দুর্ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। 3
উপসংহার
সংসদের এই আলোচনা শুধু রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা নয়, বরং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত বাস্তবতার প্রতিফলন। এখন নজর থাকবে ঘোষিত ১০ লেন প্রকল্প ও আন্ডারপাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দ্রুত দৃশ্যমান হয় তার ওপর।
