বটবাহিনী দিয়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে রাজনীতি হয় না: শামা ওবায়েদ
বটবাহিনী, সোশ্যাল মিডিয়া রাজনীতি এবং সংসদ বিতর্ক—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে জাতীয় সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে প্রকৃত রাজনীতি করা যায় না; এর জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দাবি করলে সংসদে সংক্ষিপ্ত উত্তেজনা তৈরি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়া বনাম মাঠের রাজনীতি
শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কখনোই শুধু ফেসবুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থেকে রাজনীতি করে না। বরং তারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি করে থাকে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বা অন্যকে হেয় করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করে। তার ভাষায়, “স্ট্যাটাস দিয়ে, বটবাহিনী ব্যবহার করে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি করা যায় না।”
এ প্রসঙ্গে তিনি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, যদি ১৯৭১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকতো, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারত কি না—সে প্রশ্নও উঠে আসে।
জুলাই আন্দোলন ও নতুন প্রজন্ম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ দেশের তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর গঠিত নতুন সরকারের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু অনলাইন সক্রিয়তা নয়, বাস্তব কাজে অংশগ্রহণ জরুরি। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দাবি করে বলেন, সংসদে এ ধরনের অভিযোগ আনলে তা অবশ্যই প্রমাণসহ উপস্থাপন করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, তার বিরুদ্ধে ঠিক কোথায় এবং কী ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
স্পিকারের হস্তক্ষেপ
বিতর্কের এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। এতে করে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে রাজনীতির ধরন বদলালেও মাঠপর্যায়ের সংগঠন এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনমত তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখলেও, তা একমাত্র মাধ্যম হতে পারে না।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের রাজনীতির সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে সংসদে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক বক্তব্যের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, শামা ওবায়েদের বক্তব্য সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব থাকলেও, বাস্তব কাজ ও দায়িত্বশীল বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
Source: Based on reporting from Jugantor
