এয়ারপোর্ট-গাজীপুর ৩৫ মিনিটে যাতায়াত সম্ভব: সড়কমন্ত্রী
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে চলমান অবকাঠামো প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
যানজট নিরসনে চলমান প্রকল্প
সংসদে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-১৮ এলাকা এবং উত্তর ঢাকার যানজট কমাতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বনানী ওভারপাস থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, বলাকা ভবন ও তৃতীয় টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কাজ এগিয়ে চলছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মেট্রোরেল ও এমআরটি লাইন-১
মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা মেট্রোরেলের অংশ হিসেবে এমআরটি লাইন-১ এর কাজ চলমান রয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে কুড়িল পর্যন্ত এই লাইন চালু হলে যাত্রীদের জন্য একটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রোরেল চালু হলে ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সড়কের চাপও কমে আসবে।
বিআরটি প্রকল্পে বড় পরিবর্তন
এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পকে এই পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এই সড়ককে ৮ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮টি ফ্লাইওভার এবং প্রায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর যেতে সময় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আধুনিক গণপরিবহন সুবিধা
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিআরটিসির মাধ্যমে ৩৪০টি সিএনজিচালিত একতলা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাস মূলত উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও খিলক্ষেত রুটে পরিচালিত হবে।
এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের জন্য যাতায়াত আরও আরামদায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাগরিক জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
ঢাকার উত্তরাঞ্চল ও গাজীপুর বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্প ও আবাসিক করিডর। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন। যানজট কমলে কর্মঘণ্টা সাশ্রয়, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর মতো ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
উপসংহার
সড়ক, মেট্রোরেল এবং বিআরটি—এই তিনটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নাগরিকদের মূল প্রত্যাশা, ঘোষিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হয়ে বাস্তবে ভোগান্তি কমাবে।
Source: Based on reporting from যুগান্তর and statements made in the National Parliament session.
