গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১১ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

গণভোটসহ ১১ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ সংসদীয় বিশেষ কমিটির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির সরকারপক্ষের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত কমিটির প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তবে বিরোধী দলের তিন সদস্য এসব অধ্যাদেশ বহাল রাখার পক্ষে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। 1

১৩৩টির মধ্যে কী সুপারিশ করা হয়েছে

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি বর্তমান আকারে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনরায় বিল হিসেবে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে না এনে আরও যাচাই-বাছাই ও শক্তিশালী করার পর নতুনভাবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৪টি অধ্যাদেশ অবিলম্বে রহিত করার জন্য সংসদে বিল আনার কথা বলা হয়েছে। 2

যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারপক্ষ যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, পুলিশ কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, বিচারক নিয়োগ, তথ্য অধিকার সংশোধন, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, ব্যাংক রেজুলেশন এবং গণভোট অধ্যাদেশ। 3

বিরোধী দলের ভিন্নমত

কমিটির সরকারপক্ষ ও বিরোধী দলের সদস্যরা ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে বিরোধী দলের তিন সংসদ সদস্য—অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম— নোট অব ডিসেন্ট জমা দিয়েছেন।

তাদের মতে, গণভোটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বহাল রাখা উচিত, বিশেষ করে যেগুলো নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। 4

রাজনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সুপারিশ দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রশ্নটি নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

সংসদে এই প্রতিবেদন নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

Source: Based on reporting from Jugantor, TBS, bdnews24 and parliamentary committee report

Next News Previous News