অধ্যাদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত জনগণের স্বার্থবিরোধী: শিশির মনির

ঢাকা: গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সরে আসা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে জনগণের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

গোলটেবিল বৈঠকে শিশির মনির বলেন, কেন একটি প্রধান রাজনৈতিক দল সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তা “বোধগম্য নয়”। তাঁর ভাষায়, যেসব অধ্যাদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার পরিপন্থী। তিনি মনে করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে গণভোটে দেওয়া জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের আগে তার প্রভাব, সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন

শিশির মনির বলেন, সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট রিপোর্ট জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হলে তাতে আপত্তির কোনো কারণ থাকতে পারে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ব্যয়, নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচ সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বিষয়কে “অটোমেটিক ল্যাপস” বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার আওতায় আনা হলে তা জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গণভোটের রায় নিয়ে সতর্কবার্তা

তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা বা বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, জনগণের প্রত্যাশা ও গণরায়কে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সব কিছু বাতিল হয়ে যাবে আর জনগণ বসে বসে দেখবে, তা আর হবে না।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কার, অধ্যাদেশ এবং গণভোট ইস্যু জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব ভবিষ্যতে সংসদীয় অচলাবস্থা ও রাজপথের আন্দোলনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নও জোরালো হতে পারে।

উপসংহার

অধ্যাদেশ বাতিল এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনআস্থা ধরে রাখতে হলে সব পক্ষের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধান জরুরি।

Source: Based on reporting from National Press Club roundtable coverage and local political correspondents

Next News Previous News