ডিটিজাল খাত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো এবং নীতিগত সহায়তা জরুরি। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ব্রডব্যান্ড এক্সপো-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। 0

বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কারে জোর

মন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে, তবে এ খাতে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনামূলক করনীতি এখনও পর্যাপ্ত নয়। তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তি ও ব্রডব্যান্ড খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাস্তবসম্মত ট্যাক্স কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে তিনি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকার এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতি আহ্বান জানান। 1

আগামী পাঁচ বছরের ডিজিটাল রোডম্যাপ

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো— সর্বজনীন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং কার্যকর হলে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 2

আইএসপি খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জানান, দেশের আইএসপি খাতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তবে বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে, বাকি অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, অ্যাক্টিভ শেয়ারিং চালু হলে এই অব্যবহৃত সক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। 3

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবা, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ই-কমার্স এবং ফিনটেক খাতের দ্রুত বিস্তারের কারণে ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর সুবিধা ও নীতিগত সংস্কার কার্যকর হলে দেশের প্রযুক্তি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্মার্ট অর্থনীতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। 4

সব মিলিয়ে, ব্রডব্যান্ড এক্সপো-২০২৬ শুধু একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from BSS, Dhaka Tribune and ISPAB event coverage

```5
Previous News