কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ৯ হাজার কেজি আম জব্দ

কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম জব্দ—খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সাতক্ষীরায় প্রায় ৯ হাজার কেজি অপরিপক্ব আম জব্দ করেছে পুলিশ। এসব আম কেমিক্যাল ও কার্বাইড ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় পরে এগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে এসব আম জব্দ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ আম উদ্ধার করা হয়, যা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল।

রাতের অভিযানে ট্রাকভর্তি আম জব্দ

পুলিশ সূত্র জানায়, রাত প্রায় ২টার দিকে কালীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ৩৫১ ক্যারেট আম উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার কেজি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আমগুলো অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করে দ্রুত বাজারজাত করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ধ্বংস

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জব্দকৃত আমগুলো বাজারে ছাড়ার পরিবর্তে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে পৌরসভার নির্ধারিত ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে এসব আম সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয়।

খাদ্য নিরাপত্তায় অভিযান অব্যাহত

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। যারা কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকিয়ে বাজারজাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে ফল পাকালে তা মানবদেহে নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ভোক্তাদের জন্য সতর্কতা

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন, অস্বাভাবিক রঙ, অতিরিক্ত চকচকে ভাব বা অল্প সময়ে পাকা ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। সম্ভব হলে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মৌসুমি ফল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরায় এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান আরও বিস্তৃত হলে বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News