আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক: ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা, ৪ এপ্রিল: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে জনগণের অধিকার রক্ষা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বহুদলীয় সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে আবার কোনো ধরনের “ফ্যাসিবাদী শাসন” প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। শনিবার বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় নিয়ে প্রশ্ন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। তাঁর দাবি, জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশ সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, কিন্তু সেই গণরায় বাস্তবায়নে সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং ভোট-পরবর্তী অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া পূর্বঘোষিত সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে জনগণের আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। তাঁর ভাষায়, “জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত।”

সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গায় আন্দোলনের ইঙ্গিত

বিরোধীদলীয় নেতা জানান, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এ কারণে তারা জনগণের দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ

বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বিষয়টি নিয়ে সরকারকে আরও স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা উচিত। তিনি দাবি করেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট ও তেল সংকটের কারণে বহু যানবাহন স্থবির হয়ে আছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং শিক্ষা খাতে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে।

শিক্ষা খাত নিয়ে উদ্বেগ

ডা. শফিকুর রহমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ডিজিটাল ক্লাস চালুর সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, করোনাকালে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তাই নতুন করে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো উচিত হবে না। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপের আহ্বান

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি বহুদলীয় সংলাপের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সব পক্ষকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলে জাতীয় সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট—এটি সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

উপসংহার

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কার, গণভোট, জ্বালানি সংকট এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে এসব ইস্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Source: Based on reporting from local political correspondents and event coverage in Dhaka-15

Next News Previous News