কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

ঢাকা, ৪ এপ্রিল: রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন। 0

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর প্রায় ১টা ১১ মিনিটে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় টিনশেড একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে সাতটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 1

শোকবার্তায় যা বললেন জামায়াত আমির

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশের নয়। তিনি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা নিয়ে উদ্বেগ

তিনি আরও বলেন, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি এবং নিরাপত্তা বিধি মানার ক্ষেত্রে অবহেলাই এমন প্রাণহানির বড় কারণ। স্থানীয় সূত্রগুলোও জানিয়েছে, কারখানাটি অনুমোদনহীন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 2

তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

জামায়াত আমির অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিল্পকারখানায় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাহ্য পদার্থ ব্যবহারকারী কারখানাগুলোতে ফায়ার সেফটি অডিট, জরুরি বহির্গমন পথ এবং নিয়মিত পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

জননিরাপত্তার প্রশ্ন

বাংলাদেশে শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কারখানায় আগুনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই সর্বশেষ দুর্ঘটনা আবারও নগর ও শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন।

Source: Based on reporting from BSS, The Business Standard, The Daily Star, UNB and local correspondents

Next News Previous News