আদানির সঙ্গে চুক্তি সংশোধনের বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে
আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি সংশোধন বিবেচনায় সরকার, সংসদে জানালেন মন্ত্রী
ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সংশোধনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল্য নির্ধারণ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি জাতীয় কমিটি চুক্তিটি পর্যালোচনা করেছে। ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশেষজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠানের মতামতও নেওয়া হয়েছে। 1
চুক্তির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক এক সরকারি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের মূল্য অন্যান্য সীমান্তপার বিদ্যুৎ আমদানির তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে জ্বালানি কয়লার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং কর সংক্রান্ত ব্যয় বাংলাদেশকে বহন করতে হওয়াকে বড় উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 2
একই সঙ্গে কমিটি সুপারিশ করেছে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ট্যারিফ এবং কয়লার মূল্য নির্ধারণ সূত্র পুনর্বিবেচনা করা উচিত। আলোচনায় সমাধান না এলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে। 3
সরকারের সামনে দুই পথ
মন্ত্রী সংসদে বলেন, জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সরকার বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করছে—একটি হলো আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সংশোধন, অন্যটি আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়া।
এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা প্ল্যান্ট বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়ে থাকে। 4
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির উচ্চ ব্যয় বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে ভর্তুকির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুতের দাম, শিল্প উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সময় এই চুক্তির আর্থিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
Source: Based on reporting from Parliament proceedings, Reuters, TBS and Financial Express
