আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সরকার সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও তা আরও উন্নত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

চেকপোস্ট ও টহল জোরদার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

তিনি বলেন, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নিরাপত্তা জোরদারে বহুমাত্রিক (মাল্টি-লেয়ার) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

মন্ত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া উন্নত স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার করে যাত্রী ও লাগেজ পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে, যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।

প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সুবিধা

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট জনবলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীসেবায় নজর

শুধু নিরাপত্তা নয়, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও সেবার সমন্বিত উন্নয়ন আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে যাত্রীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও উন্নত হয়।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, সরকার দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিনির্ভর এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যাত্রীসেবার উন্নয়ন এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next News Previous News