আমরা আদর্শের লড়াই চাই, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়
কীওয়ার্ড: জামায়াত, ডা. শফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ, নির্বাচনী সহিংসতা, রাজনীতি, সংসদ, স্বাস্থ্যসেবা
নির্বাচনী সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সহিংসতামুক্ত রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীকে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো পরিবার শোকাহত না হয়—সেই লক্ষ্যেই রাজনীতি আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন, তবে সেই নির্বাচন কখনোই সহিংসতার কারণ হতে পারে না। তার ভাষায়, রাজনীতি হবে মতাদর্শের লড়াই, অস্ত্র বা শক্তি প্রয়োগের নয়।
নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে একাধিক হতাহত ও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি স্মরণ করেন, এর আগেও একই এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতায় স্থানীয় এক নেতা নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। এবারের ঘটনাতেও এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ নিয়ে মন্তব্য
সংসদকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সময় অপচয় বা অশালীন আচরণের কোনো সুযোগ নেই। বরং জনস্বার্থে কার্যকর আইন প্রণয়নই হওয়া উচিত।
তার মতে, যারা সহিংসতা বা মানুষের ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার হারান।
স্বাস্থ্যখাতের সংকট তুলে ধরলেন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা এক হাজার হলেও বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৭শ’ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড ও বারান্দা পর্যন্ত রোগীতে পরিপূর্ণ অবস্থাকে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের ওপর বাড়তি চাপের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার—এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বার্তা
সরকারের সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সহিংস হবে না। জনগণের অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
হাসপাতাল সফরের সময় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের একবেলার খাবারের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে নগদ অর্থও তুলে দেন জামায়াত আমির।
Source: Based on reporting from Amar Desh
