বেগমগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ

নোয়াখালী, ৪ এপ্রিল: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিটি বাণিজ্য এবং জমি দখলের অভিযোগ তুলে দলটির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। শুক্রবার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভের ভিডিও ও ছবি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় ১.১ কিলোমিটার একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে একদল বিক্ষোভকারী কামাখ্যা চন্দ্র দাসের নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায় এবং দলীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির নামে অর্থ লেনদেন চলছে। বক্তারা দাবি করেন, এসব অনিয়মে সাধারণ মানুষ এবং দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ সরাসরি প্রধান অতিথি বরকত উল্লাহ বুলুর কাছে জানাতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে উত্তেজনা বাড়লে পুলিশি নিরাপত্তায় অভিযুক্ত নেতাকে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ, দোকান পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অংশ নিতে গেলে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি, হামলা এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।

দলীয় প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, কামাখ্যা চন্দ্র দাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় গুরুত্ব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে এমন প্রকাশ্য বিক্ষোভ শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতাই নয়, আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। নোয়াখালীর মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অভিযোগ দলীয় ভাবমূর্তির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from local correspondents and social media footage from Begumganj, Noakhali

Next News Previous News