পরীক্ষায় ঘাপলা বরদাস্ত করা হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

কীওয়ার্ড: এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬, শিক্ষামন্ত্রী, রাজশাহী, সিসিটিভি, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা অনিয়ম

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস বা প্রযুক্তিগত অজুহাতে সিসিটিভি বন্ধ থাকা বরদাস্ত করা হবে না। শনিবার রাজশাহীতে আয়োজিত দুটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। 0

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “ক্যামেরা বন্ধ ছিল” ধরনের ব্যাখ্যা সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হবে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশনা জারি করেছে। 1

প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে নতুন ও কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে আইনের আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে কীভাবে প্রশ্নফাঁস হয়, তা সরকারের জানা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেন্দ্র সচিব, পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কেন্দ্রে নকল বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 2

দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কবার্তা

শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কড়া অবস্থান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য শতাংশ, সেগুলোর এমপিও সুবিধা স্থগিত করার পূর্বঘোষণা থাকলেও আপাতত মানবিক বিবেচনায় তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফলের ধারাবাহিক অবনতি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়েই প্রশ্ন তোলে। তাই জবাবদিহিতা ও মান নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।

কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৬’ সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জাপান, জার্মানি ও কানাডার মতো দেশ হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে এবং বাংলাদেশও এই খাতকে উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।

আগামী বাজেটে কারিগরি শিক্ষাখাতে বাড়তি গুরুত্ব প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি জানান। তার মতে, বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এর গুরুত্ব

এসএসসি পরীক্ষা বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা, যা প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই পরীক্ষা স্বচ্ছ ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত রাখা জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 3

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর আইন বাস্তবায়ন হলে পরীক্ষায় অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।

Source: Based on reporting from Amar Desh, The Daily Star, Dhaka Tribune, The Business Standard

```4
Next News Previous News